কাউনিয়া (রংপুর)প্রতিনিধিঃ এক দিকে মহামারি করোনা, অন্য দিকে ধেয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজাকে ঘিরেই পদ্মফুল, পেঁচা, হাতিসহ প্রতি সেটে দুর্গার সঙ্গে অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক ও লক্ষী প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে কাউনিয়া উপজেলার প্রতিটি জায়গার পাল সম্প্রদায়ের কারিগরদের।
সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলার ইউনিয়ন প্রধান দুর্গামন্দিরগুলোতে গিয়ে দেখা যায় কমিটি ব্যস্ততা কয়েক দিন বাকী তৈরী করবে না ক্রয় করবে। কাউনিয়া পূজা উৎযাপন পরিষদ কমিটি ও কৃন্দ্রিয় দূর্গামন্দির সভাপতি শ্যামল চন্দ্র রায় জানান, প্রতিমা বাড়িতে তৈরীর চেয়ে কেনা অনেক সুবিধে তাই বেশির ভাগ মন্দিরের কমিটির লোকেরা রাজারহাট থেকে কিনে নিয়ে আসে ।
টেপামধুপুর ভায়ারহাট সদরাতালুক বটতলা সার্বজনীন দেবস্থান দুর্গামন্দিরের সভাপতি সমীর কুমার মিত্র জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যেই চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রস্তুতি চললেও করোনা মহামারি এসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে শঙ্কা আছে। সম্পাদক সুবোধ কুমার মিত্র বলেন করোনাকালীন সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।দর্শনার্থীদের জন্য মন্ডপ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হাত পরিষ্কার ও মাস্ক বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।আর মাত্র দেড়মাস বাকী কারিগরদের যেন দম ফেলার সময় নেই। শিল্পী নিরঞ্জন সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা প্রতিমা গড়েন পুজার সময়টা আসলেই বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রতিমা গড়ার কাজে বেড়িয়ে পড়েন। তবে এবার করোনা মহামারীর কারণে নিজের এলাকা বটতলা সার্বজনীন দেবস্থান দুর্গামন্দিরের প্রতিমা তৈরীতে ব্যাস্ত। কাঠ, বাঁশ, খড়, এঁটেল ও বেলেমাটি দিয়ে মূলত প্রতিমা বানানো হয়। একটা পুরো সেট পাঁচ-ছয়জন মিলে বানাতে ১৫-২০ দিনের মতো সময় লাগে। প্রতিমা গড়তে সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেন তিনি। তবে এবারে করোনা, বিষয়টি অন্য রকম। আমাদের যা আয় এ সময়েই। তবে করোনাকালীন সময়ে আমাদের খুব অভাব অনটনে দিন যাচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছি।
প্রতিমা বানাতে কেমন লাগে জানতে চাইলে নিরঞ্জন বলেন, ভোরবেলা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কাজ। মায়ের কাজ করতে ভালোই লাগে। আর এটা গভীর সাধনার কাজ সবাই পারে না। এটাকে সুন্দর করতে হলে মায়ের রূপ অন্তরে নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হয়।


0 coment rios: