সংবাদ শিরোনাম
লোডিং...
Menu

Thursday, December 9, 2021

প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মধ্যস্বত্বভোগীর কবলে শুটকী ব্যবসায়ীরা

এনায়েত করিম রাজিবঃবাগেরহাট প্রতিনিধিঃবাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন মোরেলগঞ্জ উপজেলার সমূদ্র চরাঞ্চলে শুটকী ব্যবসায়ীগন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মধ্যস্বত্বভোগী দ্বারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।



বাগেরহাট জেলার শরণখোলা রেঞ্জের অধীন সমূদ্র তীর শেওলা, নারিকেল বাড়ীয়া, দুবলা, মাঝের কিল্লা, মেহের আলী ও আলোরকোল চরাঞ্জলে অবস্থিত শীত কালীন হাজারো শুটকী ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে। যার ফলে অস্থায়ী ঘরে রক্ষিত শুটকী মাছ এবং শুকানোর জন্য চাটাইয়ের আধা শুকনা ও কাঁচা মাছ জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে এবং ৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে পচেঁ নষ্ট হয়। মৌসুমের শুরুতে এ ক্ষতির মূখে পড়ে দিশেহারা শুটকী ব্যবসায়ী জেলেগন। এরা দাদন নামের চড়াসুদে  খুলনা, সৈয়দপুর ও চট্রগামের মাছ দেওয়ার চুক্তিতে মদ্যস্বত্বভোগী মহাজনদের কাজ হতে ৫-২০ লক্ষ টাকা দাদন নিয়ে সিজন শেষে ২০% হারে মুনাফা পরিশোধ এবং কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে হিমসিম খাচ্ছে।


উল্লেখ্য বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক শুটকী ব্যবসায়ী ছোট-বড় ট্রলারসহ তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য ৭-২০ হাজার টাকা বেতনে দু’হাজারের অধীক কর্মচারী এ কাজে নিয়োজিত।


এ বিষয় কথা হয় উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ব্যবসায়ী আঃ রহিম খান (৫০), আলমাছ খান (৩৫), বারইখালী গ্রামের মোঃ আল আমিন শেখ(৫০), গাবতলা গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৮), পশুরবুনিয়া গ্রামের হাসান তালুকদার (৩৫), কুমারখালী গ্রামের সুজন শেখ (৪০), এবং পূর্বচন্ডিপুর গ্রামের সুলতান আহম্মেদ গাজী (৭৫) ও মানিক মাঝি (৫৫) জানান ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদে তাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ৪-৫ মাসের ব্যবসায় কর্মচারীদের বেতন, মহাজনদের দাদন ও সুদ কেটে মোটামুটি কিছু লাভসহ সিজন শেষ হত। সম্প্রতি সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রচুর পরিমানে দেনা নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে। সিজন শেষে ঢাকা-চট্রগামে কাজ করে দেনা পরিশোধ করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

 

এ সকল ব্যবসায়ীগন তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুদের কবল থেকে বাঁচতে সরকারিভাবে বিনা সুদে অথবা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা পেলে মহাজনছাড়া ভাল দামে শুটকী বিক্রয় করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন। এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির যুগ্ম আহবায়ক, মোঃ আল আমিন শেখ বলেন মৎস্য আহরণ ও শুটকী খাতে সরকারি সহযোগীতা কামনা করেন। মৎস্য আহরনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ং-সম্পূর্নতা লাভ করে বিদেশে মাছ রফতানী করছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শুটকী ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষন, প্রযুক্তি ও উন্নত উপকরনের মাধ্যমে শুটকী করতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। এতে করে ব্যবসায়ীরা আরো লাভবান এবং ভবিষ্যতে উন্নত মানের শুটকী রফতানীতে ভুমিকা রাখবে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: